info@first-finance.com.bd   
  EMI Calculator  09678-888999

খেলাপি ঋণ এক অংকে নামিয়ে আনবে ফার্স্ট ফিন্যান্স

২০১২-১৩ সাল পর্যন্ত ভালোই চলছিল ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফিন্যান্স লিমিটেড। হঠাত্ই হয় ছন্দপতন। বাড়তে শুরু করে খেলাপি ঋণ। কমতে থাকে মুনাফা। ২০১৫ সালে কোনো লভ্যাংশ পাননি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডাররা। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেন বিশিষ্ট ব্যাংকার মো. মহসিন মিয়া। তার দূরদর্শী উদ্যোগে বছরের প্রথম ছয় মাসেই খেলাপি ঋণের হার অনেক কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি নিজের ব্যাংকিং দর্শন, ফার্স্ট ফিন্যান্সের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে গৃহীত পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতির নানা দিক নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে  কথা বলেন তিনি। আলোচনায় উঠে আসে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাত, মানি মার্কেট, পুঁজিবাজারসহ নানা বিষয়। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মাহফুজ উল্লাহ বাবু

 আপনার ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানাবেন? আমরা যতটুকু জানি, সম্পদের মান উন্নয়নের জন্য ব্যাংকের পর্ষদগুলো আপনাকে 

স্মরণ করে..

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্যে পড়াশোনা শেষ করে আমি    সোনালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করি। একপর্যায়ে ইন্দো-সুয়েজ ব্যাংকে যোগ দিলাম। কর্মজীবনে বিশ্বের অনেক দেশে পেশাগত শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের সুযোগ হয়েছে। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রেও কিছু পড়াশোনা করেছি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফিরে এসে স্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে কাজ শুরু করি।

আমার ক্যারিয়ার সম্পর্কে ভুল শুনেছেন, এমনটি বলা যাবে না। চাকরি পরিবর্তনের রেকর্ডগুলো পর্যালোচনা করে আমিও তাই দেখছি। সিনিয়র পজিশনে আসার পর যে কয়টি ব্যাংকে আমি যোগ দিয়েছি, প্রতিটি ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের জন্যই আমাকে ডেকেছে সংশ্লিষ্ট পর্ষদ। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক এর উদাহরণ। পরবর্তীতে মেঘনা ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি। পথপরিক্রমায় এখন ফার্স্ট ফিন্যান্সে। এ প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গিয়েছিল, যার প্রভাব দেখা যাচ্ছিল মুনাফায়। শেয়ারহোল্ডাররা হতাশ হয়ে পড়ছিলেন।

ফার্স্ট ফিন্যান্সকে কীভাবে ট্র্যাকে আনছেন?

একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঠিকভাবে এগিয়ে যাবে তখনই, যখন এর প্রতিটি বিভাগ সমানতালে পারফর্ম করবে। ফার্স্ট ফিন্যান্সে যোগ দেয়ার পর আমি সেদিকে জোর দিয়েছি। টিম বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি বিভাগে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো বেশ কার্যকর ও শক্তিশালী। আমি আত্মবিশ্বাসী, পরিচালন দক্ষতা, কমপ্লায়েন্স ও মুনাফায় এগুলোর সুফল পাওয়া যাবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা ঋণ দেয়া এবং তা আদায় করা। অতীতে কিছু ঋণ ঠিকমতো আদায় হচ্ছিল না বলেই সমস্যার সূত্রপাত। এখন সেসব ঋণ আদায়কে আমরা অগ্রাধিকার তালিকায় এক নম্বরে নিয়ে এসেছি। যে ঋণগুলো অনিয়মিত, সেগুলো নিয়মিতকরণে কাজ করছে নবগঠিত সেন্ট্রাল রিকভারি বিভাগ। যেসব গ্রাহক অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না, তাদের কাছে গিয়ে একটি কার্যকর সমাধানে আসার চেষ্টা চলছে। যেখানে কোনো চেষ্টাই কাজ করছে না, সেখানে আইনি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। আমরা কোম্পানির জন্য এরই মধ্যে একটি শক্তিশালী লিগ্যাল প্যানেল গড়ে তুলেছি।

একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের প্রথম শর্ত কমপ্লায়েন্স ও ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা। নতুন করে যে ঋণগুলো দেয়া হচ্ছে, সেখানে এ দুটি বিষয়ই নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এর পর থাকে আমানত। আপনারা জানেন, এনবিএফআই হিসেবে আমরা গ্রাহকের কাছ থেকে চলতি বা সঞ্চয়ী আমানত নিতে পারি না। স্থায়ী আমানতই আমাদের তহবিলের মূল উত্স। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাস্থ্য যত ভালো হবে, তাদের জন্য আমানত সংগ্রহ তত সহজ হবে। তহবিলের ব্যয়ও তুলনামূলক কম থাকবে। আমরা সেদিকেই এগোচ্ছি।

আপনাদের এজিএম স্থগিত করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন একজন শেয়ারহোল্ডার। কেন?

২০১৫ সালে ফার্স্ট ফিন্যান্স শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এ কারণে স্টক এক্সচেঞ্জে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে আসে কোম্পানি। এতে অনেক ব্যাংকের কাছ থেকে আমানত পেতে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় ফার্স্ট ফিন্যান্স। স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারহোল্ডাররাও কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হন। এ কারণে ২০১৬ সালে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে সঞ্চিতি কিছু কম রেখে ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করি। শর্ত হিসেবে, চলতি বছর সঞ্চিতিতে সে ঘাটতি সমন্বয় করা হচ্ছে। নিয়ম হচ্ছে, সঞ্চিতি ঘাটতি থাকলে নগদ লভ্যাংশ দেয়া যায় না। কারণ তখন প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ চলে যায়। আমরা স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছি, যা কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি আরো মজবুত করবে। নিরীক্ষকও সঞ্চিতি ঘাটতির বিষয়টি আমাদের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।রিটের পর আমরা খোঁজ নিয়ে দেখলাম, অজানা কোনো উদ্দেশ্যে জনৈক ব্যক্তি হঠাত্ কোম্পানির মাত্র ১০টি শেয়ার কিনে শেয়ারহোল্ডার বনে যান এবং আদালতে এজিএম স্থগিত করার আবেদন করেন। আদালত তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এজিএম ছয় মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে আপিলে আমরা আদালতকে ম্যানেজমেন্টের উদ্দেশ্য বোঝাতে সক্ষম হই এবং আদালত পূর্ববর্তী আদেশ বাতিল করে আমাদের এজিএমের সুযোগ করে দেন। ৩০ আগস্ট বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অনুমোদন করলে আমরা ‘জেড’ থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হব। কোনো শেয়ারহোল্ডার এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, এ কথা আপনি বিশ্বাস করেন?

প্রথমার্ধে ফার্স্ট ফিন্যান্সের পারফরম্যান্স কেমন ছিল?

নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করতে গিয়ে জানুয়ারি-মার্চ অর্থাত্ প্রথম প্রান্তিকে আমরা বেশ চাপে ছিলাম। এ সময় বিগত দিনের সমন্বয়গুলোও করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম তিন মাসে ফার্স্ট ফিন্যান্স লোকসান করেছে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এসে ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা সমন্বয়ের পরও ৪ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি মুনাফা হয়। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বছর শেষে নিট মুনাফা দেখতে পাবেন শেয়ারহোল্ডাররা।আমি প্রতিষ্ঠানের পোর্টফোলিও তথা সম্পদের গুণগত মানের দিকে বেশি জোর দিচ্ছি। একটা সময় প্রায় অর্ধেকই ছিল অনিয়মিত বা অনাদায়ী ঋণ। রিকভারি টিমের দক্ষতায় গত ছয় মাসে তা ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ডিসেম্বর নাগাদ তা ২৫-এর ঘরে নামিয়ে আনতে চাই। পর্ষদকে আমরা যে পরিকল্পনা জমা দিয়েছি, সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ফার্স্ট ফিন্যান্সের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে অর্থাত্ এক অংকের ঘরে নামিয়ে আনা হবে।

ফার্স্ট ফিন্যান্সের অপারেশনাল দিকগুলো সম্পর্কে জানাবেন?

বর্তমানে আমাদের ছয়টি শাখা রয়েছে। আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার পর আমরা শাখা বাড়ানোর দিকে নজর দেব।আমাদের লোন প্রডাক্টগুলোর মধ্যে লিজ ফিন্যান্স, মেয়াদি ঋণ, আবাসন ঋণ, করপোরেট ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ, নারী উদ্যোক্তা ঋণ, গাড়ি ঋণ, চলতি মূলধন ঋণ, স্ট্রাকচার্ড ও সিন্ডিকেটেড ঋণ অন্যতম। মেয়াদি আমানত, মাসিক সঞ্চয়ভিত্তিক মেয়াদি আমানতের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করি।রেগুলেটরি কারণে আমরা আমদানি-রফতানি অর্থায়ন করতে পারি না। তবে রফতানিমুখী অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সেসবের সংযোগ শিল্পের অনেক ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে অর্থসংস্থান করি।খাতভিত্তিক চিত্রটির দিকে তাকালে দেখবেন, আমরা বাণিজ্য, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, পাট, খাদ্য উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্লাস্টিক, চামড়া ইত্যাদি খাতে ঋণ দিয়েছি। পোর্টফোলিও বহুমুখীকরণের সুফলটি হলো, কোনো খাত চাপে পড়লে সার্বিকভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেটি সামলে নিতে পারে।ফার্স্ট ফিন্যান্সের সবচেয়ে প্রশংসিত দিকটি হলো, আমাদের লোন পোর্টফোলিওর ৩৫ শতাংশই এসএমইতে। মোট ৯৮২ কোটি ২০ লাখ টাকার ঋণ-অগ্রিমের মধ্যে ৩১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হয়েছে। একাধিক গ্রিন ও সিন্ডিকেটেড প্রকল্পেও আমরা অংশগ্রহণ করেছি। আগামীতে তা আরো বাড়বে।

নতুন প্রডাক্ট উন্নয়নে আমাদের একটি ছোট রিসার্চ টিমও গঠন করা হয়েছে।

আমরা দেখলাম, গত কয়েক মাসে ফার্স্ট ফিন্যান্সে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে...

ঠিক বলেছেন। মে মাসে আমাদের কোম্পানির শেয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ছিল ১৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জুনে তা বেড়ে হয় ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। জুলাই শেষে দেখলাম আমাদের ১৯ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ারই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে।

দেখুন, ইপিএস হচ্ছে কোম্পানির কার্যক্রমের ফল। শেয়ারবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক দূরদর্শী আর সতর্ক। তারা অতীত আর বর্তমানের মধ্যে ভবিষ্যত্ অনুসন্ধান করে। আমার বিশ্বাস, তারা অনুভব করছে, কয়েক বছরের খারাপ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছে ফার্স্ট ফিন্যান্স। হিসাব-নিকাশ করে তারা সবসময়ই ভালো কিছুর প্রত্যাশায় থাকে।

দেশের অর্থনীতি কেমন চলছে?

সরকার জিডিপিতে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি আশা করছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, তা ৬ দশমিক ৭ বা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। বছর শেষে যার কথাই ঠিক প্রমাণ হোক না কেন, এক যুগ ধরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিশ্বের চোখ এড়াচ্ছে না।আমাদের এখন প্রবৃদ্ধির গুণগত মানগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখবেন, টেকসই প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি সবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে। তবে গ্যাস-বিদ্যুত্-অবকাঠামোর কারণে সম্ভাবনার সবটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমান সরকার এ বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করে পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদের মতো আমিও আশাবাদী। ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল কার্যকর করা গেলে দেশের চেহারা সত্যিই বদলে যাবে।

ব্যাংকিং খাত  মানি মার্কেট সম্পর্কে কিছু বলুন— 

শুরুতেই বলে নিই, ব্যক্তিগতভাবে আমি সুদের হার অনেক কমিয়ে আনার সমর্থক। কারণ এটি অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতে ভূমিকা রাখে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান তখন কম সুদে ঋণ পায়। তবে সুদের হার কম থাকার একটি অসুবিধা হলো, যারা আমানতের সুদের ওপর নির্ভর করেন, বিশেষ করে স্থির আয়ের মধ্যবিত্তরা, তারা চাপে থাকেন। তাদের জন্য সরকারি সঞ্চয়পত্রের মতো বিশেষায়িত ডিপোজিট প্রডাক্ট রয়েছে। এর সুবিধা সব শ্রেণীর মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা ঠিক হবে না। মানি মার্কেটে এখনো যথেষ্ট তারল্য রয়েছে। এগুলোকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে বললে এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে রেগুলেটেড বিজনেস ব্যাংকিং। আমাদের নিয়ন্ত্রক ও অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনেক কৃতিত্ব রয়েছে। আর্থিক খাতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণ কমলে ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রির সুদ ও স্প্রেডের ওপর এর সুফল দেখা যাবে। কারণ ঋণদাতা সবসময়ই তার রিকভারি রিস্কটির বিপরীতে অতিরিক্ত সুদ চার্জ করতে চায়।খেলাপি ঋণ কমানোর প্রথম শর্ত, ঋণ প্রদানে কমপ্লায়েন্স। এখানে কেউ দায়ী হলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত. আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াগুলো দ্রুততর করতে হবে।

মাঝে মাঝেই শোনা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ সদস্যরাই ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দেয়ার জন্য ম্যানেজমেন্টকে চাপ দেন। 

অসত্ উদ্দেশ্যে ঋণ দেয়ারঅনেক উদাহরণও রয়েছে আমাদের আর্থিক খাতে। ফার্স্ট ফিন্যান্সের অবস্থা জানাবেন?

আমার সৌভাগ্য, ফার্স্ট ফিন্যান্সে এখনো এমন কিছু পাইনি। পর্ষদ আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, ফার্স্ট ফিন্যান্সকে একটি গতিশীল এনবিএফআই হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। এখানে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান দুজনই কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। আমাদের উত্থাপন করা ঋণ প্রস্তাবগুলো তারা আরো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন। স্বতন্ত্র ও অন্য পরিচালকরাও অত্যন্ত পেশাদার।

কোনো প্রতিষ্ঠানে পর্ষদ থেকে অনুচিত চাপ এলেও স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তাদের দৃঢ় পেশাদারিত্ব শেষ পর্যন্ত সবার জন্য সুফল বয়ে আনে। ব্যাংকার হিসেবে আমি এটিই শিখেছি।

শেয়ারবাজারের অবস্থা কেমন দেখছেন? সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ?

আমি শেয়ারবাজার সম্পর্কে ভালো জানি না। তবে আর্থিক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন হিসেবে অনুধাবন করছি, একটা বড় ধসের পর শেয়ারবাজার এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। ফার্স্ট ফিন্যান্স সীমিত পরিসরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শেয়ারবাজারে কিছু বিনিয়োগ করে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে আমি বলব, কোম্পানির ব্যবসায় ভালো-মন্দ সবই থাকে। এর ওপর ভিত্তি করেই শেয়ারদর নির্ধারণ করতে হয়। সঙ্গে দেখতে হবে, এর বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট সুশাসনের প্রশ্নে কতটা নির্ভরযোগ্য। একটি কোম্পানির ব্যবসা ভালো, প্রবৃদ্ধি ভালো, যারা এটি চালাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভালো— এমন পরিস্থিতিতে আজ হোক কাল হোক, শেয়ারহোল্ডাররা কম-বেশি মুনাফা করবেন। কিন্তু ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা নেপথ্যে থাকা মানুষের ওপর ভরসা করা যায় না, এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে সবসময়ই সাবধান থাকতে হবে। এটি সত্য, জাংক শেয়ারে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকিটি প্রতিদিন টের পাওয়া যায় না। তবে যিনি বেশি দামে দুর্বল শেয়ার কিনে বিপদে পড়েন, তিনি ভালোভাবেই টের পান।

আরেকটি বিষয়, শেয়ারবাজার থেকে মুনাফা করতে হলে মৌলভিত্তির পাশাপাশি সেকেন্ডারি বাজারের বাস্তবতাগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে। সেজন্য বাজারের টেকনিক্যাল খুঁটিনাটিগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

Source : বণিক বার্তা